আজ থেকে ১০০ কোটি বছর পর কেমন হতে পারে আমাদের পৃথিবী?

৪০০ কোটি বছরের ইতিহাসে অনেকবার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে আমাদের পৃথিবীর। বৈজ্ঞানিকরা ভূগর্ভে লুকিয়ে থাকা অনেক প্রমান অন্বেষণ করে আমাদের জানিয়েছেন জন্মলগ্ন থেকে ঘটে আসা পৃথিবীর পরিবর্তন সম্পর্কে।সমুদ্র, পৃথিবী,পাহাড়,মরুভূমির অনেক গভীরে অন্বেষন করে আমরা জানতে পারি আমাদের পৃথিবী বিভিন্ন সময়ে কি রকম ছিল।বৈজ্ঞানিক ডেটার সাহায্যে আমরা দেখেছি বিগত সময়ের সেই সমস্ত ছবি গুলোর অ্যানালাইসিস প্রায়ই সত্যি। পৃথিবীর সেই বিগত সময়গুলো দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই,এর সাথেই পৃথিবী সময়ের সাথে সাথে কিভাবে নিজেকে বদলেছে তাও জানতে পারি।কিন্তু যদি আমাদের ভবিষ্যতের পৃথিবীকে দেখতে হয় তাহলে তার অনুমান কি আমরা করতে পারবো? পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অতীতের সমস্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকরা ভবিষ্যতের রূপ আন্দাজ করেছেন।যা জেনে আমাদের অতিশয় বিস্মিত হতে হয়।এখন আসা যাক ভবিষ্যতের সেই পৃথিবীতে আর দেখা যাক ১০০ কোটি বছর পর আমাদের এই বাসস্থান কেমন হতে পারে দেখতে,আমরা জানবো এই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে একটা দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে——

১০০ কোটি বছর পর আমাদের পৃথিবীর একটি দিন

  • আমাদের পৃথিবী আর আগের মত নেই।কি কি পরিবর্তন ঘটে গেছে আমাদের পৃথিবীর,দেখে নেওয়া যাক –
  • পৃথিবীর প্রকৃতি এখন পুরোপুরি বদলে গেছে,এতটাই যে এখন এখানে আমাদের নিঃশ্বাস নিতেও অক্সিজেন ট্যাংক এর প্রয়োজন হয়।কারণ অতীতে ঘটে যাওয়া বহুল পরিবর্তনের কারণে এখানে অক্সিজেন শেষ হয়ে গেছে।
  •  পৃথিবীর একটি দিন আর ২৪ ঘন্টা নেই,তা বেড়ে ২৮-২৯ ঘন্টা হয়েছে।
  • সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর ঘোরার বেগও ধীরে ধীরে কমেছে।যার ফলে দিন-রাতের সময়ও পালটে গেছে।

  • মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে এখন আর আগের মত সুন্দর দেখায় না।এর সৌন্দর্য এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
  • এখন আর পৃথিবীতে কোন সমুদ্র অবশিষ্ট নেই।এমনকি জলের শেষ ফোটা টুকুও শেষ হয়ে গেছে।এরকম হওয়ার কারন হল সময়ের সাথে সাথে সূর্যের আলো অনেক বেশি প্রখর হয়েছে।আর পৃথিবীর তাপমাত্রা ৮০-৯০ সেন্টিগ্রেড হয়ে গেছে।যে কারণে এখানে অতীতে উপস্থিত সমস্ত জল বাষ্পে পরিনত হয়েছে।অতীতের সেই সুজলা সুফলা পৃথিবী এখন শুধুই একটি শুষ্ক গোলা।এখন সূর্যকে কিছুক্ষন দেখলে আমরা অন্ধ হয়ে যেতে পারি।
  • পৃথিবীতে উপস্থিত সমস্ত মহাদেশ এখনো নজরে আসছে।এখন পৃথিবী আর আগের আকারে নেই।বস্তুত এখন টেকটনিক প্লেটের স্থান পরিবরতনও বন্ধ হয়ে গেছে।যার ফলে মহাদেশগুলো এক জায়গায় স্থির হয়ে গেছে।গেছে।

  • আমাদের আগের বাসস্থান এই পৃথিবী এখন খুবই অচেনা লাগছে।যেন আমরা অন্য গ্রহে চলে এসেছি।যার তাপমাত্রা ও পরিবেশ আমাদের জন্য অনুকূল নয়।
  • জল শুকিয়ে যাবার কারণে এখানের সমস্ত জীবিত প্রাণী শেষ হয়ে গেছে।
  • আকাশও তার রূপ বদলে ফেলেছে।এটা এখন আর আগের মত লাগে না।তার রঙ এখন ধূসর।জল বাষ্প হয়ে ভূপৃষ্ঠের উপর চলে আসার কারণে এই স্তরে প্রচুর পরিমানে জলীয় বাষ্প উপস্থিত।
  • ভূপৃষ্ঠে এখন শুধুমাত্রই বেজান জমি আর পাথর ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।

  • সময়ের সাথে সাথে দূরে চলে যাওয়া আমাদের চাঁদও এখন খুব ছোট দেখায়।

যে পৃথিবীকে আমরা চিনতাম তার চিহ্ন এখন আমাদের পায়ের ১ হাজার ফুট নীচে সময়ের বালিতে চাপা পড়ে গেছে।আমাদের সভ্যতার সেই চিহ্ন এখন আর কোথাও বিন্দু মাত্র চোখে পড়ে না।মানব জাতির আবিষ্কার,শিক্ষা,লড়াই,অভিজ্ঞতার যেন এখন আর কোন মানেই নেই।কারণ ১০০ কোটি বছরের মধ্যে বর্তমান মানব জাতির থেকেও উন্নত কোন সভ্যতা এখানে বিকশিত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর এই রূপ দেখে বিশ্বাসই হয়না যে এখানে কখনো আমাদের বাসস্থান ছিল।

১০০ কোটি বছর পর মানব জাতির অস্তিত্ব 

এখন কথা হলো সে সময় আমরা মানব জাতি কোথায় থাকব বা আদৌ থাকব কিনা তা বলা মুশকিল।হয়তো আমরা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাব বা সৌরমণ্ডল এর অন্য কোন কোন গ্রহে চলে যাব।কারণ সূর্যের বেড়ে যাওয়া প্রখর তাপে যদিও পৃথিবী প্রাণহীন হবে কিন্তু শনি ও বৃহস্পতির তাপমাত্রা সেই সময়ে প্রাণ জন্মের জন্য অনুকূল হয়ে উঠতে পারে।আমরা মানব জাতি সে সময়ে থাকি বা না থাকি কিন্তু জীবন কোন না কোন ভাবে সৌরমণ্ডলে তার নিঃশ্বাস ঠিকই নিতে থাকবে।

or

Log in with your credentials

Forgot your details?