কলেজ পড়ুয়া মেয়ের অঙ্গ দান করে নজির গড়ল পরিবার

হলদিয়া:‌ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মেয়ে। ঠিক করে শোকজ্ঞাপনও করা হয়নি। তারমধ্যেই নজির গড়ল হলদিয়ার একটি পরিবার।মৃত মেয়ের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা।মৃত তরুণীর নাম দীপশিখা সামন্ত। বয়স মাত্র ২২ বছর।

Haldia Institute Of Technology Girl Died

হলদিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিল।বাস ছিল দূর্গাচকের অনুসূয়া আবাসনে।গত রবিবার হলদিয়া মেলায় আশা ভোঁসলের সঙ্গীতানুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সঙ্কীর্ণ রাস্তা দিয়ে আসার সময় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পায়।তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।পরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে আনা হয়।টানা তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যায় সে। তবে শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার দুপুর দু’‌টোয় তাকে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। রাত ৮টা নাগাদ মৃত্যু হয়।মেয়ের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে গোটা পরিবার।তবে দায়িত্বজ্ঞান হারাননি। হাসপাতালে দাঁড়িয়েই দীপশিখার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাঁরা।যাতে অন্য কেউ অন্তত নতুন জীবন পায়। বুধবার রাতেই অঙ্গ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।প্রথমে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। তারপর শুরু হয় চোখ সংগ্রহের কাজ।দীপশিখার বাবা হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদে কর্মরত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়ের দেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। নাগাদ মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে হলদিয়ার দুর্গাচকের অনুসুয়া আবাসনে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকেই দায়ী করেছে দীপশিখার পরিবার।অভিযোগ উঠেছে, হলদিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফুটপাথ সংস্কারের কাজ চলছে।তার জেরে রাস্তার পাশে স্টোনচিপস, বালি এবং লোহার খাঁচা ডাঁই করে রাখা হয়েছে।তাতে রাস্তা সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে।তার ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তা নির্মাণের কাজে প্রশাসনকে নজরদারি চালাতে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।

Reported By : Pampii Adhikary, Khobor Pratyohik 

Tags:

or

Log in with your credentials

Forgot your details?