ক্রিটিক্সদের মতে কেমন ছিল ‘থ্যাগস অব হিন্দুস্তান’ মুভিটি?

2018 সালের 8-ই নভেম্বর মুক্তি পায় বলিউডের “মিষ্টার পার্ফেক্টশনিস্ট” আমির খানের 300 কোটির মুভি ‘থ্যাগস অব হিন্দুস্তান’।প্রথমে মুভির ষ্টোরিলাইন নিয়ে যদি কথা বলি,ক্রিটিক্সদের মতে মুভির প্লট ছিল যথেষ্ট দুর্বল । ঐতিহাসিক একটি গল্প নিয়ে মুভিটি বানানো হলেও,এটি কোন হিষ্টোরিক্যাল ভাইভ তৈরি করতে পারেনি।আবার অনেকেই বলেছেন মুভিটি অনেক লম্বা ছিল।অনেক দৃশ্য অযথাই স্লো ভাবে দেখানো হয়েছে।এজন্যই অনেকে বলেছে মুভির গল্প দর্শকদের কাছে একঘেয়ে মনে হয়েছে ।অনেকেই আবার বলেছেন হলিউড মুভি ‘’পাইরেটস অব দ্যা ক্যারিবিয়ান’’কে অনুসরণ করার চেষ্টা করতে গিয়ে মুভির মূল গল্প এবং নিজস্বতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।ফলে প্রশ্ন উঠেছে পরিচালক বিজয় আচার্য-র নির্দেশনা নিয়েও।অনেকে আবার এটাও বলছেন যদি মুভিটা সঞ্জয় লীলা বনসালী বানাতো তাহলে অন্য রকম হলেও হতে পারতো।

তাহলে কি শুধু গল্পের জন্যই এই মুভির এত বেহাল দশা?না,শুধু গল্প না। কাষ্টিং নিয়েও কথা বলেছেন ক্রিটিক্সরা।অনেকেই বলেছেন মুভিতে অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ তেমন কোন অভিনয়ের সুযোগই পাননি।তাকে শুধুই দুটি গানে নাচতে দেখা গিয়েছে।আবার অনেকে এটাও বলেছেন যেহেতু ১৮ শতকের কাহিনী নিয়ে মুভিটি বানানো হয়েছে তাহলে ক্যাটরিনার গায়ে আধুনিক পোশাক কেন ছিল?তাই কস্টিউম ডিসাইন নিয়েও অনেকে দ্বন্দ্ব তৈরী হয়েছে।অভিনেত্রী ফাতিমারও দাঙ্গালে যেমন পারফরমেন্স ছিল তার তুলনায় এই মুভিতে তার অভিনয় একদমই জমেনি।

এবার আসা যাক মুভির প্রধান আকর্ষণ আমির খান আর অমিতাভ বচ্চন এর প্রসঙ্গে। ধৈর্য নিয়ে সিটে বসে মুভিটি দেখার একটি কারণ অবশ্যই এই দুই অভিনেতার প্রথম যৌথ কাজ।মুভিটি দেখার জন্য দর্শকদের এই দুইজনই টেনে নিয়ে গেছেন। কিন্তু তারপর ও মানুষ বলছে যে মনে রাখার মত কোন ডায়লগই নাকি নেই এই মুভিতে।তার উপর যেখানে এই দুই লেজেন্ড একসাথে কাজ করেছেন সেখানে আরো অনেক ক্ষেত্রেই ভাল করা যেত মুভিটি।এটা পরিচালকের ব্যর্থতা যে সে তাদের কাজে লাগাতে পারেনি।

 

এবার আসা যাক ভিজুয়্যাল এফেক্ট প্রসঙ্গে।এই বিষয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।কেউ বলছে ভাল,কেউ বলেছে চলার মত আবার কেউ কেউ বলছে একেবারেই দুর্বল কোয়ালিটির ভিজুয়্যাএফেক্ট ছিল এই মুভিতে।একটি এডভেঞ্চার মুভিতে যে ধরনের সেট ,যে ধরনের এফেক্ট দেখানোর কথা ছিল সেরকম কিছুই নাকি ছিলনা এই মুভিতে।যেমন কেউ কেউ বলেছে জাহাজের ডেক গুলো নাকি অতরিক্ত ছোট ছিল।জাহাজেড় ফাইট দৃশ্য গুলোর এফেক্টও ছিল যথেষ্ট নিম্ন মানের।

সব মিলিয়ে এই তো ছিল মুভি নিয়ে ক্রিটিক্সদের মতামত।আমরা সবাই জানি যে এই মুভির বাজেট ৩০০ কোটি টাকা।এত বড় বাজেটের মুভিটি নিয়ে অনেকেই সংশয়ে আছে যে এই মুভি এত বড় বাজেট অতিক্রম করা তো দূরের কথা ধারে কাছে যেতে পারবে কিনা। বক্সঅফিস রিপোর্ট বলছে 11 দিনে মুভির কালেকশন 145.95 কোটি।বাকিটা সময়ের অপেক্ষা।

or

Log in with your credentials

Forgot your details?